ক্রিকেটে নো বল: ব্যাটার ও দর্শকের পূর্ণ গাইড
ক্রিকেটে নো বল হলো এমন অবৈধ ডেলিভারি, যার জন্য ব্যাটিং দল সাধারণত ১ রান পায় এবং বলটি ওভারের বৈধ ছয় বলের মধ্যে গণনা হয় না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইন ২১ নো বলের মূল কাঠামো নি...
ক্রিকেটে নো বল: ব্যাটার ও দর্শকের পূর্ণ গাইড
ক্রিকেটে নো বল হলো এমন অবৈধ ডেলিভারি, যার জন্য ব্যাটিং দল সাধারণত ১ রান পায় এবং বলটি ওভারের বৈধ ছয় বলের মধ্যে গণনা হয় না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইন ২১ নো বলের মূল কাঠামো নির্ধারণ করে, আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল ম্যাচভেদে ফ্রি হিট ও মাঠের বিধিনিষেধ যোগ করে। বোলার ক্রিজের সামনের লাইন ছাড়িয়ে গেলে, কোমরের ওপর পূর্ণ টস করলে, ব্যাটারের মাথার ওপর দিয়ে বিপজ্জনক বাউন্সার পাঠালে বা নির্ধারিত ফিল্ডিং নিয়ম ভাঙলে নো বল হতে পারে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নো বলের পরের বল প্রায়ই ফ্রি হিট হয়, কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে একই সুবিধা সব সময় প্রযোজ্য নয়। তাই স্কোরবোর্ডে নো বল দেখলে আগে কারণ, অতিরিক্ত রান এবং ফ্রি হিটের নিয়ম আলাদা করে দেখুন।

মূল কথা: নো বলের নিয়ম কী?
নো বলের মূল ফল তিনটি: ব্যাটিং দল অন্তত ১ অতিরিক্ত রান পায়, ডেলিভারিটি বৈধ বল হিসেবে গণনা হয় না, এবং প্রযোজ্য প্রতিযোগিতায় পরের বল ফ্রি হিট হয়। মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের ক্রিকেটের আইন অনুযায়ী, নো বল ঘোষণা করা আম্পায়ারের দায়িত্ব; বল ব্যাটে লেগে রান হলে সেই রানও অতিরিক্ত ১ রানের সঙ্গে যোগ হয়।
এখানে একটি হিসাবের বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ। বোলার যদি নো বলে ব্যাটারের ব্যাটে লেগে ৪ রান দেন, স্কোর হবে মোট ৫ রান—১ নো বল এবং ৪ ব্যাটারের রান। বলটি বাউন্ডারি ছুঁয়ে গেলে স্কোরবোর্ডে ৫ নো বল দেখাতে পারে, কিন্তু পুরো ৫ রান অতিরিক্ত নয়। একইভাবে নো বলে ব্যাটার দৌড়ে ২ রান নিলে মোট যোগ হবে ৩ রান। রান, বোলারের খরচ এবং ব্যাটারের ব্যক্তিগত স্কোর আলাদা করে দেখাই নিরাপদ পদ্ধতি।
‘নো বল’ আর ‘ওয়াইড’ এক জিনিস নয়। ব্যাটারের নাগালের বাইরে বল গেলে ওয়াইড হতে পারে, কিন্তু ডেলিভারি একই সঙ্গে নো বলের শর্ত পূরণ করলে নো বল অগ্রাধিকার পায়। ম্যাচের প্রতিযোগিতামূলক নিয়ম, যেমন আইসিসি টি-টোয়েন্টি বা আইসিসি ওডিআই শর্ত, অতিরিক্ত ফ্রি হিট বা বাউন্সারের সীমা নির্ধারণ করতে পারে। ক্রিকেট গাইডে ম্যাচ বিশ্লেষণ পড়ার সময় তাই শুধু “অতিরিক্ত রান” নয়, নো বলের কারণও দেখা উচিত।
বিস্তারিত আইন মিলিয়ে দেখতে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইনভিত্তিক নির্দেশিকা দেখুন।
মাঠে খেলোয়াড়রা আসলে কী দেখেন?
আম্পায়ার এক হাত সোজা ওপরে তুলে নো বলের সংকেত দেন। এই সংকেত দেখা মাত্র স্কোরার নো বলের জন্য ১ রান যোগ করেন, ডেলিভারিটি বাতিল করেন এবং বলের ফল আলাদা করে লিখে রাখেন। ব্যাটার যদি শট খেলেন, দৌড়ান বা বাউন্ডারি মারেন, সেই ফলও একই ডেলিভারির সঙ্গে যুক্ত হয়; তবে পরের বলটি বৈধভাবে নতুন ডেলিভারি হিসেবে শুরু হবে।
বোলারের জন্য সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা হলো সামনের পা পপিং ক্রিজের আগে পড়া। পপিং ক্রিজের রেখা স্পর্শ করলেই সব সময় নো বল হয় না; সামনের পায়ের কিছু অংশ ক্রিজের পেছনে বা তার সঙ্গে মাটিতে থাকতে হয়। পেছনের পা রিটার্ন ক্রিজের বাইরে পড়লেও নো বল হতে পারে, বিশেষ করে ডেলিভারির সময় বোলারের অবস্থান আইনসিদ্ধ না হলে। তৃতীয় আম্পায়ার সাধারণত ফ্রন্ট-ফুট নো বল পরীক্ষা করেন, ফলে সামান্য ব্যবধানও গুরুত্বপূর্ণ।
উচ্চতার নিয়মও পরিস্থিতিনির্ভর। ব্যাটার ক্রিজে সোজা দাঁড়িয়ে থাকলে কোমরের ওপর পূর্ণ টস বিপজ্জনক নো বল হতে পারে; বল বাউন্স করার পর ব্যাটারের মাথার ওপর দিয়ে গেলে সেটি বাউন্সারের নিয়ম ভাঙতে পারে। আইসিসি-র খেলার শর্তাবলি প্রতিযোগিতা অনুযায়ী বাউন্সারের সংখ্যা ও উচ্চতার সীমা বদলাতে পারে। অর্থাৎ একটি ডেলিভারি টেস্ট, ওডিআই এবং টি-টোয়েন্টিতে একইভাবে বিচার নাও হতে পারে।
আরেকটি কম আলোচিত বিষয় হলো উইকেটকিপারের অবস্থান। বল ছাড়ার আগে কিপার সম্পূর্ণভাবে উইকেটের পেছনে না থাকলে, অথবা ফিল্ডার আইনসিদ্ধ অবস্থানে না থাকলে আম্পায়ার নো বল ডাকতে পারেন। এই কারণটি টেলিভিশন রিপ্লেতে কম দেখা যায়, কিন্তু লো-স্কোরিং ম্যাচে ১ অতিরিক্ত রান এবং একটি বাতিল বল পুরো ফল বদলে দিতে পারে।
ক্রিকেট আম্পায়ারের সংকেত ও স্কোরবোর্ড পড়ার গাইড
নো বলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৩টি বিষয় কী?
নো বল বোঝার জন্য তিনটি বিষয়ই আগে যাচাই করুন: কেন নো বল হয়েছে, মোট কত রান যোগ হয়েছে এবং পরের বল ফ্রি হিট কি না। এই তিনটি তথ্য স্কোরবোর্ড, আম্পায়ারের সংকেত এবং ম্যাচের নির্দিষ্ট খেলার শর্ত মিলিয়ে নিশ্চিত করা যায়। সব নো বলের পর একই ধরনের সুবিধা থাকে না।
প্রথম বিষয় হলো কারণ। ফ্রন্ট-ফুট নো বল সাধারণত বোলারের পা-সংক্রান্ত ভুল; কোমরের ওপর পূর্ণ টস বা মাথার ওপর বিপজ্জনক বাউন্সার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ভুল। ফিল্ডিং সীমা ভাঙা হলে বোলারের পা ঠিক থাকলেও নো বল হতে পারে। তাই বোলারের বিরুদ্ধে নো বল লেখা মানেই তিনি ক্রিজে ওভারস্টেপ করেছেন—এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
দ্বিতীয় বিষয় হলো রান হিসাব। নিচের উদাহরণগুলো স্কোরবোর্ড পড়তে সাহায্য করবে:
- বল ব্যাটে লাগেনি, ব্যাটার দৌড়াননি: ১ নো বল।
- নো বলে ব্যাটে লেগে ৪ রান: মোট ৫ রান, যার ৪ ব্যাটারের স্কোরে।
- নো বলে ব্যাটে না লেগে ২ বাই: মোট ৩ রান, ১ নো বল ও ২ বাই।
- নো বলে ব্যাটার আউট হলে, আইনসিদ্ধ আউটের ধরন অনুযায়ী ফল নির্ধারিত হবে।
তৃতীয় বিষয় হলো ফ্রি হিট। আইসিসি সীমিত ওভারের ম্যাচে সাধারণত নো বলের পরের ডেলিভারিকে ফ্রি হিট করে; তবে নো বলের পর রান-আউট, ব্যাটার বদল, ওভার শেষ হওয়া বা ইনিংস শেষ হওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে ক্রমটি বদলাতে পারে। ফ্রি হিটে ব্যাটার আউটের সুযোগ পুরোপুরি শেষ হয় না। রান-আউট, বল দুবার মারা এবং ফিল্ডিংয়ে বাধা দেওয়ার মতো আউটের ধরন এখনও প্রযোজ্য হতে পারে।
এই হিসাবটি মনে রাখলে বাজি বা ম্যাচ-পরিসংখ্যান দেখার সময় একটি বড় ভুল এড়ানো যায়: নো বলের অতিরিক্ত রানকে বোলারের রান এবং ব্যাটারের রান হিসেবে একই ঘরে যোগ করা যায় না। ক্রিকেট গাইডের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণেও এই বিভাজন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বোলারের ইকোনমি, দলের মোট স্কোর এবং ব্যাটারের স্ট্রাইক—তিনটির প্রভাব আলাদা।
ফ্রি হিট কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং কখন প্রযোজ্য?
সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নো বলের পরের বৈধ ডেলিভারি সাধারণত ফ্রি হিট, অর্থাৎ ব্যাটারকে কয়েকটি নির্দিষ্ট আউটের বাইরে নিরাপত্তা দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের ওডিআই ও টি-টোয়েন্টি শর্তে এই সুবিধা ব্যাটিং দলকে আক্রমণাত্মক শট খেলার সুযোগ দেয়, কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে নো বলের পর ফ্রি হিট সাধারণ নিয়ম নয়। ম্যাচের নিয়ম আগে যাচাই করাই সঠিক।
ফ্রি হিটে ব্যাটার স্টাম্পড বা ক্যাচ আউট হন না, যদি না অন্য কোনো আইনসিদ্ধ ঘটনা যুক্ত থাকে। উদাহরণ হিসেবে, ব্যাটার শট খেলতে গিয়ে ক্রিজের বাইরে থাকলেও কিপার সরাসরি স্টাম্প ভাঙলে সাধারণত স্টাম্পড আউট হবে না; কিন্তু ব্যাটার রান নেওয়ার চেষ্টা করলে রান-আউট হতে পারেন। একইভাবে ক্যাচ নেওয়া হলেও ব্যাটারকে ক্যাচ আউট দেওয়া যায় না, কিন্তু বল দুবার ইচ্ছাকৃতভাবে মারা বা ফিল্ডারকে বাধা দেওয়ার মতো বিরল ঘটনা আলাদা।
ফ্রি হিটের সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা হলো, “এই বলে ব্যাটার আউট হতে পারবেন না।” বাস্তবতা আরও সংকীর্ণ। বলটি আগের নো বলের পরে নির্ধারিত ফ্রি হিট হলে আম্পায়ার আগের বলের ধরন দেখেন, কিন্তু পরবর্তী ডেলিভারির ফল আলাদা করে প্রয়োগ করেন। ওভার শেষ হলে ফ্রি হিটের অধিকার সাধারণত পরের ওভারের প্রথম বলে বহাল থাকতে পারে, কারণ এটি নির্দিষ্ট ডেলিভারির সঙ্গে যুক্ত; তবে ইনিংস বা ম্যাচের অবস্থা বদলালে অফিসিয়াল খেলার শর্তই চূড়ান্ত।
স্মার্টফোনে লাইভ স্কোর দেখার সময় “এনবি”, “এফএইচ” বা আলাদা রঙের চিহ্ন দেখা যেতে পারে। এগুলো তৃতীয় পক্ষের স্কোরিং সিস্টেমের সংক্ষিপ্ত রূপ; আইসিসি, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্ল্যাটফর্মে চিহ্নের ধরন ভিন্ন হতে পারে। অতএব শুধু একটি আইকন দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে ম্যাচের স্কোরকার্ডের ডেলিভারি বিবরণ পড়ুন।

কোন ব্যতিক্রমগুলো দর্শক প্রায়ই ভুল করেন?
নো বলে ব্যাটার আউট হতে পারেন, তবে আউটের ধরন সীমিত। নো বলের ডেলিভারিতে ব্যাটারকে ক্যাচ, বোল্ড, এলবিডব্লিউ বা স্টাম্পড আউট দেওয়া যায় না; কিন্তু রান-আউট, ফিল্ডিংয়ে বাধা, এবং বল দুবার মারার মতো নির্দিষ্ট আউট এখনও সম্ভব। এই ব্যতিক্রমগুলো মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইন ২১-এর সঙ্গে অন্যান্য আউটের আইন মিলিয়ে পড়তে হয়।
এলবিডব্লিউ নিয়ে বিভ্রান্তি বেশি। ব্যাটার নো বলে প্যাডে আঘাত পেলেও এলবিডব্লিউ দেওয়া যায় না, কারণ নো বল নিজেই অবৈধ ডেলিভারি। তবে ব্যাটার রান নেওয়ার সময় ক্রিজের বাইরে থাকলে ফিল্ডার স্টাম্প ভেঙে রান-আউট করতে পারেন। বল ব্যাটারের শরীরে লেগে বাউন্ডারিতে গেলে বাই বা লেগ-বাইয়ের নিয়মও প্রযোজ্য হতে পারে, কিন্তু নো বলের ১ রান আলাদা থাকবে।
ওভারের হিসাবও অনেকে ভুল করেন। ছয়টি বৈধ বল সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নো বল ওয়াইড ওভারের বলসংখ্যা পূরণ করে না। যেমন একটি ওভারে পাঁচটি বৈধ বলের পর নো বল হলে, এখনও একটি বৈধ বল বাকি থাকবে। নো বলের পরের ফ্রি হিট বলটি বৈধ হলে তবেই ওভার এগোবে। স্কোরকার্ডে “৫.১” থেকে “৫.২” যাওয়ার আগে ডেলিভারিটি বৈধ ছিল কি না, সেটি দেখা দরকার।
কিছু প্রতিযোগিতায় বলের উচ্চতা ও শর্ট-পিচ ডেলিভারির সীমা আলাদা থাকে। আইসিসি টি-টোয়েন্টিতে নির্দিষ্ট ওভারপ্রতি বাউন্সার সীমা থাকতে পারে, আবার ঘরোয়া লিগে ভিন্ন নিয়ম দেখা যায়। তাই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ, আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং টেস্ট ম্যাচের নো বলের কারণ এক করে দেখা ভুল। সংশ্লিষ্ট প্রতিযোগিতার অফিসিয়াল খেলার শর্তই চূড়ান্ত উৎস।
এলবিডব্লিউ, রান-আউট ও স্টাম্পিংয়ের পার্থক্য
নো বলের সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্দেহ হলে কী করবেন?
সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্দেহ হলে প্রথমে আম্পায়ারের সংকেত, তারপর বলের রিপ্লে, শেষে অফিসিয়াল স্কোরকার্ড—এই তিন ধাপ অনুসরণ করুন। টেলিভিশন রিপ্লেতে ফ্রন্ট-ফুট নো বলের জন্য ক্রিজের ক্যামেরা, উচ্চতার জন্য ব্যাটারের স্টাম্প-ভিউ এবং ফিল্ডিং অবস্থানের জন্য ওয়াইড অ্যাঙ্গেল দেখা দরকার। একমাত্র ছবি দেখে পা বা বলের উচ্চতা বিচার করলে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ডিআরএস সাধারণত ব্যাটারের আউটের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে; নো বলের প্রতিটি ঘটনা ডিআরএসে নেওয়া যায় না। তবে তৃতীয় আম্পায়ার ফ্রন্ট-ফুট নো বল যাচাই করতে পারেন, বিশেষ করে ক্যাচ বা বোল্ডের মতো সিদ্ধান্তের সঙ্গে বিষয়টি যুক্ত হলে। ২০২৬ সালের কোনো নির্দিষ্ট সিরিজে প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা হবে, তা ম্যাচের খেলার শর্ত ও সম্প্রচার ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে।
দর্শকের জন্য কার্যকর পরীক্ষা হলো:
- স্কোরবোর্ডে অতিরিক্ত রান “নো বল” হিসেবে লেখা হয়েছে কি না দেখুন।
- ওভারের বৈধ বলের সংখ্যা কমেছে কি না মিলিয়ে নিন।
- পরের ডেলিভারিতে ফ্রি হিট চিহ্ন আছে কি না দেখুন।
- ব্যাটারের আউটের ধরন নো বলে বৈধ কি না যাচাই করুন।
- চূড়ান্ত তথ্যের জন্য আইসিসি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল স্কোরকার্ড ব্যবহার করুন।
রান বা পরিসংখ্যান নিয়ে বাজি ধরার আগে এই যাচাই বিশেষভাবে জরুরি। নো বলের ১ রান দলীয় মোট স্কোর বদলায়, কিন্তু ব্যাটারের রান বদলায় না; আবার একই ডেলিভারিতে বাউন্ডারি হলে বোলারের খরচ প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত বাড়ে। ক্রিকেট গাইডের ম্যাচ পর্যালোচনায় তাই “নো বলের সংখ্যা” এবং “নো বল থেকে মোট রান”—দুটি আলাদা তথ্য হিসেবে দেখা উচিত।

নো বলের নিয়ম মনে রাখার সহজ পদ্ধতি কী?
নো বল মনে রাখার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো “কারণ, রান, বল”—এই তিনটি শব্দ ধরে সিদ্ধান্ত নেওয়া। কারণটি জানুন, মোট রান আলাদা করুন, তারপর বলটি বৈধভাবে ওভারে গণনা হয়েছে কি না দেখুন। সীমিত ওভারে এর সঙ্গে চতুর্থ শব্দ হিসেবে “ফ্রি হিট” যোগ হবে, কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে সেটি ধরে নেওয়া যাবে না।
খেলোয়াড় ও দর্শক উভয়ের জন্য একটি ছোট তালিকা কার্যকর:
- বোলারের সামনের পা কোথায় পড়েছে?
- বলটি কোমরের ওপর পূর্ণ টস বা মাথার ওপর বিপজ্জনক বাউন্সার কি না?
- ফিল্ডার ও উইকেটকিপারের অবস্থান আইনসম্মত কি না?
- নো বলের ১ রান ছাড়াও ব্যাটে, বাই বা লেগ-বাই রান হয়েছে কি না?
- পরের বলটি ফ্রি হিট কি না?
- কোনো আউটের সিদ্ধান্ত হলে সেটি নো বলে বৈধ কি না?
একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক ধারণা হলো, নো বল বোলারের নিয়ন্ত্রণের ছোট ভুল হলেও এর প্রভাব ধারাবাহিক হতে পারে। এক নো বলে ১ রান, একটি অতিরিক্ত বৈধ বল এবং ফ্রি হিট—তিনটি সুবিধা ব্যাটিং দলকে একসঙ্গে দিতে পারে। তাই বোলিং বিশ্লেষণে শুধু উইকেট বা ডট বল নয়, নো বলের হারও দেখা উচিত। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে ২০ ওভারের সীমিত সম্পদে একটি অবৈধ বল ম্যাচের শেষ ওভারের পরিকল্পনা বদলে দিতে পারে।
টি-টোয়েন্টি বোলিং কৌশল ও শেষ ওভারের পরিকল্পনা
রায়: নো বলের নিয়ম থেকে কী মনে রাখবেন?
নো বলের সাধারণ ফল হলো ১ রান, একটি অতিরিক্ত ডেলিভারি এবং সীমিত ওভারের ম্যাচে সাধারণত ফ্রি হিট। তবে কারণভেদে নিয়ম বদলায়: ওভারস্টেপ, উচ্চতার সীমা, বাউন্সার, কিপারের অবস্থান এবং ফিল্ডিং নিষেধাজ্ঞা—সবগুলো আলাদা করে বিচার করতে হয়। নো বলে ক্যাচ, বোল্ড, এলবিডব্লিউ বা স্টাম্পিং সাধারণত আউট নয়, কিন্তু রান-আউট, বল দুবার মারা এবং ফিল্ডিংয়ে বাধা দেওয়া এখনও গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম।
শেষ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য স্কোরবোর্ডের প্রতীককে একমাত্র প্রমাণ হিসেবে নেবেন না। আম্পায়ারের হাতের সংকেত, রিপ্লে, প্রতিযোগিতার অফিসিয়াল খেলার শর্ত এবং মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইন মিলিয়ে দেখুন। নো বলের রান ব্যাটারের স্কোরে যোগ হয় না, কিন্তু ব্যাটে লেগে আসা রান যোগ হয়; এই পার্থক্যই অধিকাংশ স্কোরিং ভুলের মূল কারণ। সংক্ষেপে, “নো বল মানে শুধু অতিরিক্ত ১ রান”—এটি অসম্পূর্ণ ব্যাখ্যা; সঠিক উত্তর হলো অতিরিক্ত রান, বাতিল ডেলিভারি, সম্ভাব্য ফ্রি হিট এবং সীমিত আউটের নিয়ম।
আরও ম্যাচ বিশ্লেষণ, খেলোয়াড় পরিসংখ্যান ও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের তথ্যের জন্য ক্রিকেট গাইডের নিয়মভিত্তিক কনটেন্ট অনুসরণ করতে পারেন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
প্রশ্ন: ক্রিকেটে নো বল কী?
উত্তর: নো বল হলো এমন অবৈধ ডেলিভারি, যার জন্য ব্যাটিং দল সাধারণত ১ রান পায় এবং বলটি বৈধ বল হিসেবে গণনা হয় না। বোলারের পা ক্রিজের বাইরে পড়া, কোমরের ওপর পূর্ণ টস, বিপজ্জনক বাউন্সার বা ফিল্ডিং নিয়ম ভাঙা এর কারণ হতে পারে। সীমিত ওভারের ম্যাচে নো বলের পরের বল সাধারণত ফ্রি হিট হয়, তবে প্রতিযোগিতার খেলার শর্ত অবশ্যই যাচাই করতে হবে।
প্রশ্ন: নো বলে কত রান পাওয়া যায়?
উত্তর: নো বলে ব্যাটিং দল অন্তত ১ রান পায়। ব্যাটার ব্যাটে ৪ রান করলে মোট যোগ হবে ৫ রান, কিন্তু ব্যাটারের ব্যক্তিগত স্কোরে যোগ হবে শুধু ৪। বল ব্যাটে না লেগে দৌড়ে ২ রান হলে মোট হবে ৩ রান—১ নো বল এবং ২ অতিরিক্ত রান।
প্রশ্ন: নো বলের পর ফ্রি হিট কি সব ক্রিকেটে থাকে?
উত্তর: না, নো বলের পর ফ্রি হিট মূলত সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ব্যবহৃত হয়। আইসিসি ওডিআই ও টি-টোয়েন্টিতে এটি সাধারণ নিয়ম হলেও টেস্ট ক্রিকেটে সাধারণত প্রযোজ্য নয়। ফ্রি হিটে ক্যাচ, বোল্ড, এলবিডব্লিউ ও স্টাম্পিং সাধারণত আউট নয়, কিন্তু রান-আউট এবং কয়েকটি বিরল আউটের ধরন বৈধ থাকে।
প্রশ্ন: নো বলে ব্যাটার কি আউট হতে পারেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তবে নো বলে ব্যাটারকে সব ধরনের আউট দেওয়া যায় না। ক্যাচ, বোল্ড, এলবিডব্লিউ ও স্টাম্পিং সাধারণত বাতিল হয়, কিন্তু রান-আউট, ফিল্ডিংয়ে বাধা এবং বল দুবার মারার মতো আউট বৈধ হতে পারে। সিদ্ধান্ত বুঝতে নো বলের কারণ এবং ব্যাটার রান নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কি না—দুটিই দেখতে হবে।
প্রশ্ন: নো বল ও ওয়াইডের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: নো বল মূলত বোলারের অবৈধ ডেলিভারি, আর ওয়াইড হলো ব্যাটারের স্বাভাবিক নাগালের বাইরে চলে যাওয়া বল। উভয় ক্ষেত্রেই সাধারণত ১ অতিরিক্ত রান হয় এবং বলটি বৈধ বল হিসেবে গণনা হয় না। তবে নো বলে ব্যাটারের ব্যাটে রান যোগ হতে পারে এবং সীমিত ওভারে ফ্রি হিটের সুবিধা আসতে পারে, যা সাধারণ ওয়াইডে থাকে না।
প্রশ্ন: নো বলের ভুল সিদ্ধান্ত হলে কীভাবে যাচাই করব?
উত্তর: প্রথমে আম্পায়ারের সংকেত, পরে রিপ্লে এবং শেষে অফিসিয়াল স্কোরকার্ড যাচাই করুন। ফ্রন্ট-ফুট নো বলের ক্ষেত্রে ক্রিজ-ক্যামেরা, উচ্চতার ক্ষেত্রে ব্যাটারের স্টাম্প-ভিউ এবং ফিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে প্রশস্ত ক্যামেরা বেশি নির্ভরযোগ্য। আইসিসি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল খেলার শর্ত চূড়ান্ত রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করুন।
এই ঘটনাবলী অন্বেষণ করার জন্য ধন্যবাদ।
ক্রিকেট গাইড · The Archive