সামগ্রিকে যান সামগ্রিকে যান
প্রবেশ

৩টি ডিআরএস ধাপ তুলনা: আরও সঠিক সিদ্ধান্ত

ক্রিকেটে ডিআরএস হলো মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত যাচাইয়ের প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা, যা আইসিসির আন্তর্জাতিক ম্যাচে ব্যবহার করা হয়। এর মূল তিন সহায়ক ধাপ হলো হক-আই বল-ট্র্যাকিং, আল্ট্রাএজ এবং ভিডিও রিপ্লে;...

৩০ অক্টোবর, ২০২৬ 5 min read
৩টি ডিআরএস ধাপ তুলনা: আরও সঠিক সিদ্ধান্ত
❦

৩টি ডিআরএস ধাপ তুলনা: আরও সঠিক সিদ্ধান্ত

ক্রিকেটে ডিআরএস হলো মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত যাচাইয়ের প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা, যা আইসিসির আন্তর্জাতিক ম্যাচে ব্যবহার করা হয়। এর মূল তিন সহায়ক ধাপ হলো হক-আই বল-ট্র্যাকিং, আল্ট্রাএজ এবং ভিডিও রিপ্লে; প্রতিটি আলাদা প্রশ্নের উত্তর দেয়। হক-আই বলটি কোথায় পিচ করেছে এবং স্টাম্পে আঘাত করত কি না দেখায়, আল্ট্রাএজ ব্যাটে স্পর্শের শব্দ শনাক্ত করে, আর ভিডিও রিপ্লে ক্যাচ বা বলের উচ্চতা যাচাই করে। সাধারণত একটি দল প্রতি ইনিংসে নির্দিষ্ট সংখ্যক রিভিউ পায়, আর আম্পায়ারস কল থাকলে রিভিউ নষ্ট হয় না। ডিআরএস নিজে সিদ্ধান্ত দেয় না; মাঠের আম্পায়ারই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। তাই রিভিউ নেওয়ার আগে ব্যাট-প্যাডের অবস্থান, বলের লাইন এবং প্রযুক্তির প্রমাণ একসঙ্গে বিবেচনা করুন।

Madame Destiny Megaways · Free demo

A cricket umpire reviewing a close LBW decision on a large stadium replay screen

মূল কথা: ক্রিকেটে ডিআরএস কীভাবে কাজ করে?

ডিআরএস তিন ধরনের প্রমাণ একত্র করে—ভিডিও রিপ্লে, শব্দভিত্তিক আল্ট্রাএজ এবং গতিপথভিত্তিক বল-ট্র্যাকিং। মাঠের আম্পায়ার সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর অধিনায়ক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিভিউ চাইতে পারেন; টেলিভিশন আম্পায়ার ধাপে ধাপে প্রমাণ পরীক্ষা করে মাঠের সিদ্ধান্ত বহাল, বদল বা বাতিল করেন। ক্রিকেটের নিয়মে প্রযুক্তি সহায়ক, চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ নয়।

ডিআরএসের প্রক্রিয়াটি বাইরে থেকে কয়েক সেকেন্ডের মনে হলেও ভেতরে বেশ নিয়মবদ্ধ। প্রথমে টেলিভিশন আম্পায়ার দেখেন রিভিউটি নিয়মসঙ্গত কি না। এরপর নো-বল, ব্যাটে স্পর্শ, বলের পিচিং, ইমপ্যাক্ট এবং স্টাম্পে আঘাত—প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো একে একে পরীক্ষা করা হয়। একটি এলবিডব্লিউ রিভিউতে সব ধাপ দরকার হতে পারে, কিন্তু ক্যাচের ক্ষেত্রে আল্ট্রাএজ ও ভিডিও রিপ্লে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ক্রিকেটের এলবিডব্লিউ নিয়ম সহজ ব্যাখ্যা

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বা আইসিসির ম্যাচ-প্রোটোকল অনুযায়ী, মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে অকারণে পাল্টানো যায় না। প্রযুক্তির ফল যদি পুরোপুরি পরিষ্কার না হয়, তখন মূল সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। এ কারণেই ডিআরএসকে নিখুঁত যন্ত্র না ভেবে সিদ্ধান্ত যাচাইয়ের নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতি হিসেবে দেখা ভালো। [ক্রিকেট গাইড] ক্রিকেটকেন্দ্রিক ম্যাচ পর্যালোচনা, খেলোয়াড় পরিসংখ্যান, বিপিএল কভারেজ এবং ব্যাটিং-বোলিং কৌশল নিয়ে তথ্য প্রকাশ করে।

ডিআরএসের প্রাথমিক কাঠামো বোঝার পর রিভিউয়ের নিয়ম আরও পরিষ্কারভাবে দেখে নিতে পারেন।

আরও জানুন

দর্শক ও খেলোয়াড় আসলে কী দেখেন?

ডিআরএস স্ক্রিনে সাধারণত স্লো-মোশন রিপ্লে, আল্ট্রাএজের তরঙ্গরেখা, বলের ত্রিমাত্রিক গতিপথ এবং স্টাম্পের ভার্চুয়াল ছবি দেখা যায়। ব্যাটসম্যান ও দর্শক একই ছবি দেখলেও টেলিভিশন আম্পায়ারের হাতে আরও বেশি ক্যামেরা-কোণ, শব্দতথ্য এবং প্রযুক্তিগত যাচাই থাকে। তাই পর্দায় দেখা একটি ফ্রেমই সব সময় চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।

রিভিউয়ের সময় মাঠের আম্পায়ার প্রথম সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন, তারপর টেলিভিশন আম্পায়ার সেটি পরীক্ষা করেন। যদি পরিষ্কার ভুল ধরা পড়ে, সিদ্ধান্ত বদলানো হয়। যদি প্রমাণ অসম্পূর্ণ হয়, “ফলাফল অনির্ধারিত” ধরনের পরিস্থিতিতে মাঠের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। এলবিডব্লিউতে বলের অনুমানভিত্তিক ভবিষ্যৎ গতিপথ দেখানো হয়, তাই দর্শকের চোখে স্টাম্পের কাছাকাছি মনে হলেও প্রযুক্তির সীমারেখা গুরুত্বপূর্ণ।

রিভিউ চলার সাধারণ ধাপ

১. মাঠের আম্পায়ার আউট বা নট-আউট সিদ্ধান্ত দেন।
২. ফিল্ডিং অধিনায়ক বা ব্যাটসম্যান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিভিউ চান।
৩. টেলিভিশন আম্পায়ার দেখেন রিভিউটি গ্রহণযোগ্য কি না।
৪. প্রাথমিক ক্যামেরা রিপ্লেতে ব্যাটে স্পর্শ, ক্যাচ বা নো-বল পরীক্ষা করা হয়।
৫. প্রয়োজন হলে আল্ট্রাএজ, বল-ট্র্যাকিং এবং অতিরিক্ত ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়।
৬. টেলিভিশন আম্পায়ার মাঠের আম্পায়ারকে সিদ্ধান্ত জানান।
৭. মাঠের আম্পায়ার দর্শক ও খেলোয়াড়দের চূড়ান্ত ফল জানান।

এখানে একটি কম বোঝা বিষয় হলো “নরম সংকেত” বা সফট সিগন্যাল। ক্যাচের ক্ষেত্রে মাঠের আম্পায়ার প্রাথমিক মত জানাতে পারেন, কিন্তু পরিষ্কার ভিডিও প্রমাণ না থাকলে সেই মত বদলানো কঠিন হতে পারে। আইসিসি ২০২৩ সালে সফট সিগন্যাল বাতিল করে ক্যাচ রিভিউয়ের পদ্ধতি সরল করেছে; এখন টেলিভিশন আম্পায়ার দৃশ্যমান প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেন। এটি ডিআরএস ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

ক্রিকেটে আম্পায়ারের সংকেত ও সিদ্ধান্তের তালিকা

ডিআরএসে খেলোয়াড়ের আচরণও ফলাফলে প্রভাব ফেলে। রিভিউ চাওয়ার আগে ব্যাটসম্যান সাধারণত অধিনায়কের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করেন, কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলে অনুরোধ গ্রহণ করা নাও হতে পারে। এই ছোট সময়ের মধ্যে টার্নওভার বা হিসাবের মতো ঠান্ডা মাথায় তথ্য গোনা দরকার—বল ব্যাটে লেগেছে কি না, প্যাডে আগে লেগেছে কি না, এবং বলটি স্টাম্পে পৌঁছাত কি না।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৩টি বিষয় কী?

ডিআরএসের ফল মূলত তিনটি প্রশ্নের ওপর নির্ভর করে: ব্যাটে স্পর্শ হয়েছিল কি না, বলের সম্ভাব্য গতিপথ কী ছিল, এবং মাঠের সিদ্ধান্ত বদলানোর মতো পরিষ্কার প্রমাণ আছে কি না। আল্ট্রাএজ প্রথম প্রশ্নে, বল-ট্র্যাকিং দ্বিতীয় প্রশ্নে এবং ভিডিও রিপ্লে তৃতীয় প্রশ্নে সহায়তা করে। তিনটি ফল একসঙ্গে মিললেই রিভিউয়ের শক্তি সবচেয়ে বেশি হয়।

১. হক-আই বল-ট্র্যাকিং

হক-আই ক্যামেরা বলের গতিপথের বিভিন্ন বিন্দু সংগ্রহ করে এবং পিচের পর বল কোন দিকে এগোত তার একটি মডেল তৈরি করে। এলবিডব্লিউতে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে দেখা হয়:

  • বলটি প্যাডে লাগার আগে কোথায় পিচ করেছে।
  • প্যাডে লাগার সময় বল স্টাম্পের লাইনে ছিল কি না।
  • বলটি স্টাম্পে আঘাত করত কি না।

পিচিংয়ের ক্ষেত্রে বলটি স্টাম্পের সামনে বা বাইরে পড়েছে কি না গুরুত্বপূর্ণ। বল যদি লেগ-স্টাম্পের বাইরে পিচ করে, সাধারণত এলবিডব্লিউ দেওয়া যায় না, যদি না ব্যাটসম্যান শট না খেলেন—এখানে নিয়মের নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম আছে। ইমপ্যাক্ট “অ্যাম্পায়ারস কল” হলে মাঠের সিদ্ধান্ত সাধারণত বহাল থাকে।

বল-ট্র্যাকিংকে বাস্তব বলের সম্পূর্ণ পুনর্নির্মাণ ভাবা ঠিক নয়। ক্যামেরা ডেটা, বলের গতি, ঘূর্ণন এবং দৃশ্যমান অংশ থেকে সম্ভাব্য গতিপথ তৈরি হয়। স্টাম্পের কতটা অংশে বল লাগত, তার সীমা প্রযুক্তির নকশা ও ম্যাচ-প্রোটোকলের সঙ্গে যুক্ত। তাই ৫০ শতাংশের কাছাকাছি অনুমানকে নিশ্চিত আউট হিসেবে দেখা ভুল।

২. আল্ট্রাএজ কী শনাক্ত করে?

আল্ট্রাএজ ব্যাট, বল, প্যাড বা মাটির সংস্পর্শে তৈরি ক্ষীণ শব্দ ও কম্পনের সময় মিলিয়ে দেখে। ভিডিওতে বল ব্যাটের পাশ দিয়ে গেছে মনে হলেও যদি শব্দের তরঙ্গ বলের ব্যাটে পৌঁছানোর মুহূর্তের সঙ্গে মিলে যায়, তখন ক্যাচ বা এজের পক্ষে প্রমাণ শক্ত হয়। তবে শব্দের উৎস সব সময় ব্যাট নয়; প্যাড, মাটি কিংবা ব্যাটের নড়াচড়াও সংকেত তৈরি করতে পারে।

এখানে সময়ের মিল সবচেয়ে জরুরি। বল ব্যাটের পাশ কাটানোর ঠিক আগে তরঙ্গ দেখা গেলে সেটি ব্যাটে স্পর্শের প্রমাণ হতে পারে; আবার বল প্যাডে লাগার পরে শব্দ হলে সেটি এজ নয়। পুরোনো “হটস্পট” প্রযুক্তি কালো দাগের মাধ্যমে স্পর্শ দেখানোর চেষ্টা করত, কিন্তু আল্ট্রাএজ শব্দের সময়কে বেশি গুরুত্ব দেয়। দুই প্রযুক্তি এক জিনিস নয়—এ পার্থক্য দর্শকের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

“আল্ট্রাএজ নিশ্চিতভাবে প্রতিটি ক্ষীণ স্পর্শ ধরে”—এমন ধারণা ঠিক নয়। ব্যাটের প্রান্ত, বলের গতি, পরিবেশের শব্দ এবং সেন্সরের সংবেদনশীলতা ফলকে প্রভাবিত করতে পারে। এজন্য টেলিভিশন আম্পায়ার আল্ট্রাএজের সঙ্গে স্লো-মোশন ভিডিওও দেখেন।

৩. মাঠের সিদ্ধান্ত ও আম্পায়ারস কল

আম্পায়ারস কল মানে প্রযুক্তির অনুমান মাঠের সিদ্ধান্তকে পরিষ্কারভাবে ভুল প্রমাণ করতে পারেনি। এলবিডব্লিউতে পিচিং বা ইমপ্যাক্টের কিছু অংশ সীমার কাছে থাকলে এই ফল দেখা যায়। রিভিউ নেওয়ার পর আম্পায়ারস কল হলে সিদ্ধান্ত বদলায় না এবং অনেক প্রতিযোগিতার নিয়মে রিভিউও নষ্ট হয় না।

A television umpire examining Hawk-Eye ball tracking during a tense international cricket match

এটি ডিআরএসের সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ হলেও যুক্তিটি সরল: প্রযুক্তির পূর্বাভাসে অনিশ্চয়তা থাকলে মাঠের সিদ্ধান্তকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ২০২৪ বা ২০২৬ সালের ম্যাচে ব্যবহৃত প্রযুক্তি উন্নত হলেও মডেল কখনও শতভাগ নিশ্চিত ভবিষ্যৎ দেখায় না। এই নীতির কারণে ডিআরএসের লক্ষ্য “প্রতিটি সিদ্ধান্ত বদলানো” নয়; লক্ষ্য হলো স্পষ্ট ভুল কমানো।

আইসিসির ডিআরএস প্রযুক্তি ও ম্যাচ-প্রোটোকল এবং মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের ক্রিকেট আইন পড়লে এই নীতির ভিত্তি বোঝা যায়। এমসিসির আইনের বাংলা অর্থে বলা যায়, “আম্পায়ারই সিদ্ধান্তের একমাত্র বিচারক এবং তাঁর সিদ্ধান্তই ম্যাচের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত।” ডিআরএস সেই সিদ্ধান্ত পরীক্ষা করে, আম্পায়ারের দায়িত্ব পুরোপুরি কেড়ে নেয় না।

কোন বিশেষ পরিস্থিতিতে ডিআরএস বিভ্রান্ত করতে পারে?

ডিআরএসের সীমাবদ্ধতা সবচেয়ে স্পষ্ট হয় যখন ক্যাচের সময় বল মাটিতে ছুঁয়েছে কি না, ব্যাট-প্যাডের ব্যবধান খুব কম, বা বলের গতিপথ স্টাম্পের প্রান্তে গিয়ে মিলেছে। প্রযুক্তি ছবি ও ডেটা দেয়, কিন্তু ছবির ফ্রেমে অদৃশ্য মুহূর্ত থাকলে ফল ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই একই ঘটনার বিষয়ে ব্যাটসম্যান, ফিল্ডার এবং দর্শকের ধারণা আলাদা হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

ক্যাচে বল মাটিতে ছুঁয়েছে কি না

ক্যাচ রিভিউতে ক্যামেরার উচ্চতা, বলের গতি এবং ফিল্ডারের আঙুলের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। বল হাতে ঢোকার সময় নিচের অংশ মাটির খুব কাছে থাকলে একটি ফ্রেমে বল নিরাপদ মনে হতে পারে, অন্য ফ্রেমে মাটির সঙ্গে সংযোগ দেখা যেতে পারে। টেলিভিশন আম্পায়ার সাধারণত একাধিক কোণ ও স্লো-মোশন মিলিয়ে দেখেন।

২০২৩ সালে সফট সিগন্যাল সরিয়ে দেওয়ার পর এই ধরনের রিভিউতে মাঠের আম্পায়ারের প্রাথমিক মতের ওপর নির্ভরতা কমে। তবে ক্যামেরা যদি বল ও মাটির সংযোগের পরিষ্কার ছবি না দেয়, তখন নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন থাকে। এটি ডিআরএসের একটি তথ্যগত সীমা, প্রযুক্তির ব্যর্থতা নয়।

নো-বল ও ফ্রেমের সমস্যা

ফ্রন্ট-ফুট নো-বল দেখতে বিশেষ ক্যামেরা দরকার, কারণ বোলারের পা ক্রিজের কাছে দ্রুত নড়ে। একটি স্থির ফ্রেমে পা লাইনের ওপর মনে হলেও পরের ফ্রেমে সামনে থাকতে পারে। টেলিভিশন আম্পায়ার সাধারণত বলের ফলাফল দেখার আগে নো-বল যাচাই করেন, কারণ নো-বল হলে পরে পাওয়া উইকেট বাতিল হতে পারে।

এখানে বাস্তব তথ্য হলো, প্রতিটি ডিআরএস রিভিউ একই সংখ্যক ক্যামেরা বা একই মানের সম্প্রচার সংকেতের ওপর নির্ভর করে না। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ, আইসিসি প্রতিযোগিতা এবং ঘরোয়া লিগে প্রযুক্তি সরবরাহকারী আলাদা হতে পারে। তাই ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ বা ইংল্যান্ডের ম্যাচে পর্দার графিক এক রকম না হলেও সিদ্ধান্তের মূল নিয়ম একই থাকতে পারে।

শেষ ওভারের সময়-সংক্রান্ত রিভিউ

শেষ ওভারে ব্যাটসম্যান বদল, রান-আউট, নো-বল এবং সময় শেষ হওয়ার ঘটনা একসঙ্গে ঘটতে পারে। রিভিউ চাওয়ার সময়সীমা সাধারণত খুব কম, আর মাঠের আম্পায়ার যদি পরের বল শুরু করার অনুমতি দিয়ে দেন, পরে রিভিউ চাওয়ার সুযোগ থাকে না। অধিনায়ককে তাই সংকেতের অপেক্ষা না করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

ক্রিকেটে রান-আউট ও স্টাম্পিং রিভিউয়ের নিয়ম

আরেকটি কম আলোচিত বিষয় হলো রিভিউয়ের হিসাব। একটি দল কত রিভিউ দিয়ে শুরু করছে, কতটি সফল বা ব্যর্থ হয়েছে, এবং আম্পায়ারস কলের পর রিভিউ নষ্ট হবে কি না—এসব প্রতিযোগিতা অনুযায়ী বদলাতে পারে। টেস্ট ক্রিকেটে প্রচলিত নিয়ম ও টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার নিয়ম এক নয়। ম্যাচ শুরুর আগে দলগুলোর জন্য প্রযোজ্য আইসিসি প্লেয়িং কন্ডিশন দেখে নেওয়াই নিরাপদ।

আরও বাস্তব উদাহরণ ও নিয়মের পার্থক্য এক জায়গায় দেখতে চাইলে নিচের তথ্যটি কাজে লাগতে পারে।

আরও জানুন

ডিআরএস রিভিউ নেওয়ার আগে কী ভাববেন?

রিভিউ নেওয়ার আগে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো আবেগ নয়, তথ্যের ক্রম অনুসরণ করা। প্রথমে বল ব্যাটে লেগেছে কি না জিজ্ঞেস করুন, তারপর প্যাডে লাগার সময় বলের লাইন দেখুন, শেষে বল-ট্র্যাকিংয়ের সম্ভাব্য ফল বিচার করুন। দলের বিশ্লেষক, অধিনায়ক এবং উইকেটকিপারের দ্রুত মতামত এখানে কাজে লাগে।

ফিল্ডিং দলের জন্য

ফিল্ডিং অধিনায়কের উচিত শুধু জোরালো আবেদন দেখে রিভিউ না নেওয়া। বরং নিচের প্রশ্নগুলো দ্রুত যাচাই করা দরকার:

  • উইকেটকিপার কি ব্যাটে স্পর্শের শব্দ শুনেছেন?
  • বলটি প্যাডে লাগার আগে ব্যাটের খুব কাছে ছিল কি?
  • বোলারের বলের লাইন স্টাম্পের দিকে ছিল কি?
  • বলটি পিচ করার জায়গা লেগ-স্টাম্পের বাইরে ছিল কি?
  • মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদলানোর মতো স্পষ্ট প্রমাণ আছে কি?

ক্যাচের ক্ষেত্রে ফিল্ডার নিজে বল মাটিতে ছোঁয়নি বলে নিশ্চিত হলেও ক্যামেরা-কোণ না দেখা পর্যন্ত রিভিউয়ের ফল নিশ্চিত নয়। রান-আউটে ব্যাটের মাথা ক্রিজে পৌঁছেছিল কি না, বেল পুরোপুরি পড়ে যাওয়ার সময় ব্যাটের অবস্থান কোথায় ছিল—এই দুই মুহূর্ত আলাদা করে দেখা হয়।

ব্যাটিং দলের জন্য

ব্যাটসম্যানের ক্ষেত্রে “ব্যাটে লেগেছে” দাবি যথেষ্ট নয়। প্যাডে লাগার পর বল স্টাম্পে পৌঁছাত কি না, বল পিচ করার স্থান নিয়মসঙ্গত কি না এবং ইমপ্যাক্ট স্টাম্পের লাইনে কি না—সব একসঙ্গে দেখা দরকার। বিশেষত বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে ডানহাতি বোলারের বল ও রিভার্স-সুইং পরিস্থিতিতে চোখের অনুমান ভুল হতে পারে।

ব্যাটসম্যান রিভিউ নিলে সময় নষ্ট না করে উইকেটকিপার, নন-স্ট্রাইকার এবং ভিডিও সংকেতের তথ্য মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। অবশ্য মাঠের খেলোয়াড়রা সব সম্প্রচার ছবি দেখেন না, তাই তাদের সিদ্ধান্ত কখনও অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর দাঁড়ায়। এই কারণেই ডিআরএসে সঠিক যোগাযোগ প্রযুক্তির মতোই গুরুত্বপূর্ণ।

দর্শকের জন্য সঠিক ব্যাখ্যা

দর্শকের উচিত “লাল” বা “সবুজ” графিক দেখে পুরো সিদ্ধান্ত বোঝার চেষ্টা না করা। বল-ট্র্যাকিংয়ের তিনটি অংশ—পিচিং, ইমপ্যাক্ট এবং উইকেট-হিটিং—আলাদা ফল দিতে পারে। একটিতে আম্পায়ারস কল থাকলে অন্য অংশ পরিষ্কার হলেও মাঠের মূল সিদ্ধান্ত বহাল থাকতে পারে।

Cricket captain discussing a DRS review with wicketkeeper and teammates beside the pitch

ডিআরএস নিয়ে আলোচনায় আরেকটি ভুল হলো প্রযুক্তিকে সব সময় নিরপেক্ষ ও ভুলহীন ভাবা। হক-আই, আল্ট্রাএজ এবং সম্প্রচার ক্যামেরা ভিন্ন ধরনের তথ্য ব্যবহার করে। তাই তিনটি ব্যবস্থার ফল এক নয় এবং একটি ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা অন্যটি সব সময় পূরণ করতে পারে না। ইএসপিএনক্রিকইনফোর স্কোরকার্ড ও ম্যাচ রিপোর্ট দেখার সময়ও রিভিউয়ের পাশে “আম্পায়ারস কল”, “বল ট্র্যাকিং” বা “আল্ট্রাএজ” উল্লেখ আছে কি না লক্ষ্য করুন।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: ডিআরএস কি ন্যায্য ফল দেয়?

ডিআরএস ক্রিকেটের ভুল কমিয়েছে, কিন্তু ভুলের সম্ভাবনা পুরোপুরি দূর করেনি। এর শক্তি হলো একই সিদ্ধান্তকে ভিডিও, শব্দ এবং বলের সম্ভাব্য গতিপথ দিয়ে যাচাই করা; সীমাবদ্ধতা হলো ভবিষ্যৎ গতিপথ অনুমান, আংশিক ক্যামেরা-দৃশ্য এবং আম্পায়ারস কলের নিয়ম। ফলে ডিআরএসকে ভালো সিদ্ধান্ত সহায়ক ব্যবস্থা বলা যায়, নিখুঁত বিচারক নয়।

সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত রিভিউ হলো যেটি স্পষ্ট প্রমাণের ওপর নেওয়া হয়। ক্যাচে বল-মাটি সংযোগ, এলবিডব্লিউতে পিচিং-ইমপ্যাক্ট-উইকেট, এবং রান-আউটে বেল ভাঙার মুহূর্ত—এই নির্দিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজলে ডিআরএস বোঝা সহজ হয়। ২০২৬ সালের ক্রিকেটেও প্রযুক্তির সঙ্গে নিয়মপাঠ জরুরি থাকবে, কারণ পর্দায় দেখা ফলের অর্থ নির্ধারণ করে আইসিসি ও এমসিসির প্রযোজ্য আইন।

সংক্ষেপে মনে রাখুন:

  • ডিআরএস মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পরীক্ষা করে, সব সময় বাতিল করে না।
  • হক-আই সম্ভাব্য বলের গতিপথ দেখায়।
  • আল্ট্রাএজ ব্যাটে বা অন্য বস্তুর স্পর্শের সময় শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
  • আম্পায়ারস কল অনিশ্চিত সীমার ক্ষেত্রে মাঠের সিদ্ধান্তকে সুরক্ষা দেয়।
  • রিভিউয়ের সংখ্যা ও নিয়ম ম্যাচের ফরম্যাট এবং প্রতিযোগিতা অনুযায়ী বদলাতে পারে।
  • স্পষ্ট ভুল না থাকলে মূল সিদ্ধান্ত বহাল থাকাই ডিআরএসের নীতি।

ক্রিকেটের নিয়ম, ম্যাচ বিশ্লেষণ এবং খেলোয়াড়ের কৌশল নিয়ে আরও পরিষ্কার ব্যাখ্যা পেতে ক্রিকেট গাইডের দৈনিক ক্রিকেট তথ্য অনুসরণ করতে পারেন।

আরও জানুন

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

প্রশ্ন: ক্রিকেটে ডিআরএস কী?

উত্তর: ডিআরএস হলো মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত প্রযুক্তির সাহায্যে যাচাই করার ব্যবস্থা। এতে ভিডিও রিপ্লে, আল্ট্রাএজ এবং হক-আই বল-ট্র্যাকিং ব্যবহার হতে পারে। এলবিডব্লিউ, ক্যাচ, রান-আউট, স্টাম্পিং এবং নো-বল রিভিউতে এটি কাজে লাগে। তবে টেলিভিশন আম্পায়ার প্রমাণ পরীক্ষা করলেও মাঠের আম্পায়ারই আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানান। ম্যাচের ফরম্যাট অনুযায়ী প্রতিটি দল নির্দিষ্ট সংখ্যক রিভিউ পায়, তাই প্রতিটি আবেদনে রিভিউ খরচ করা যুক্তিসঙ্গত নয়।

প্রশ্ন: ডিআরএস রিভিউ কীভাবে নেওয়া হয়?

উত্তর: মাঠের অধিনায়ক বা ব্যাটসম্যান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাত দিয়ে রিভিউয়ের সংকেত দিলে প্রক্রিয়া শুরু হয়। টেলিভিশন আম্পায়ার প্রথমে রিভিউ গ্রহণযোগ্য কি না যাচাই করেন, তারপর নো-বল, ব্যাটে স্পর্শ, বলের পিচিং, ইমপ্যাক্ট এবং স্টাম্পে আঘাত পরীক্ষা করেন। সিদ্ধান্ত বদলানোর মতো পরিষ্কার প্রমাণ থাকলে মাঠের সিদ্ধান্ত পাল্টে যায়। প্রমাণ অসম্পূর্ণ হলে মূল সিদ্ধান্ত বহাল থাকে, তাই সংকেত দেওয়ার আগে দ্রুত কিন্তু তথ্যভিত্তিক আলোচনা দরকার।

প্রশ্ন: হক-আই আর আল্ট্রাএজের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: হক-আই বলের সম্ভাব্য গতিপথ দেখায়, আর আল্ট্রাএজ ব্যাট বা অন্য বস্তুর সংস্পর্শের শব্দ শনাক্ত করে। এলবিডব্লিউতে হক-আই পিচিং, ইমপ্যাক্ট এবং স্টাম্প-হিটিং বিশ্লেষণ করে। ক্যাচ বা এজের ক্ষেত্রে আল্ট্রাএজের তরঙ্গরেখা ভিডিও রিপ্লের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। দুই প্রযুক্তি আলাদা তথ্য দেয়, তাই একটির ফল দেখে অন্যটির ফল অনুমান করা ঠিক নয়।

প্রশ্ন: আম্পায়ারস কল হলে কি রিভিউ নষ্ট হয়?

উত্তর: আম্পায়ারস কল হলে সাধারণত মাঠের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে, কিন্তু রিভিউ নষ্ট হবে কি না তা প্রযোজ্য ম্যাচ-প্রোটোকলের ওপর নির্ভর করে। এলবিডব্লিউতে বলের ইমপ্যাক্ট বা স্টাম্প-হিটিং সীমার কাছে থাকলে আম্পায়ারস কল দেখা যায়। আইসিসির টেস্ট, একদিনের ম্যাচ এবং টি-টোয়েন্টি প্লেয়িং কন্ডিশনে রিভিউ-সংক্রান্ত নিয়ম আলাদা হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট ম্যাচের নিয়ম আগে জানা সবচেয়ে নিরাপদ।

প্রশ্ন: ডিআরএস কাজ না করলে কী হয়?

উত্তর: প্রযুক্তিগত সমস্যা হলে টেলিভিশন আম্পায়ার উপলব্ধ ক্যামেরা ও তথ্য দিয়ে যতটা সম্ভব পরীক্ষা করেন, আর প্রয়োজনীয় প্রমাণ না থাকলে মাঠের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। সম্প্রচার সংকেত, আল্ট্রাএজ, বল-ট্র্যাকিং বা ক্যামেরা ব্যর্থ হলে ম্যাচ-প্রোটোকল অনুযায়ী খেলা সাময়িক থামতে পারে। প্রযুক্তি ফিরে এলে রিভিউ চালু হয়, কিন্তু সময়সীমা শেষ হয়ে গেলে নতুন রিভিউ গ্রহণ করা যায় না। তাই ডিআরএসের ফল সব সময় প্রযুক্তির পূর্ণ সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না।

প্রশ্ন: ডিআরএস ব্যবহার করতে কি খেলোয়াড় বা দর্শকের আলাদা খরচ হয়?

উত্তর: খেলোয়াড় বা দর্শক ব্যক্তিগতভাবে ডিআরএসের জন্য আলাদা অর্থ দেন না; প্রযুক্তির খরচ আয়োজক বোর্ড, সম্প্রচারক বা প্রতিযোগিতা কর্তৃপক্ষ বহন করে। হক-আই, আল্ট্রাএজ, অতিরিক্ত ক্যামেরা এবং টেলিভিশন আম্পায়ার ব্যবস্থার জন্য ম্যাচভেদে অবকাঠামো লাগে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই সুবিধা সাধারণত আইসিসি বা সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ম্যাচ-চুক্তির অংশ। ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় খরচ কম হলে সব ম্যাচে পূর্ণ ডিআরএস নাও থাকতে পারে।

প্রশ্ন: ডিআরএস কি সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত দেয়?

উত্তর: ডিআরএস ভুল সিদ্ধান্তের সংখ্যা কমায়, কিন্তু শতভাগ নিশ্চয়তা দেয় না। বল-ট্র্যাকিং সম্ভাব্য গতিপথ অনুমান করে, আল্ট্রাএজ শব্দের সময় মিলিয়ে দেখে, আর ভিডিও ক্যামেরার কোণ সীমিত হতে পারে। আম্পায়ারস কল অনিশ্চিত ফলের ক্ষেত্রে মাঠের সিদ্ধান্ত রক্ষা করে। তাই ডিআরএসকে চূড়ান্ত সত্যের যন্ত্র না ভেবে নিয়ম, প্রযুক্তি ও আম্পায়ারের সমন্বিত সিদ্ধান্তব্যবস্থা হিসেবে বোঝাই সবচেয়ে সঠিক।

§

এই ঘটনাবলী অন্বেষণ করার জন্য ধন্যবাদ।

❦

ক্রিকেট গাইড · The Archive

সম্পর্কিত নিবন্ধ