সামগ্রিকে যান সামগ্রিকে যান
প্রবেশ

২০২৬ ক্রিকেট ফিল্ডিং: ১১টি গুরুত্বপূর্ণ নাম

ক্রিকেটে ফিল্ডিং পজিশনের নাম শুধু মুখস্থ করার বিষয় নয়; প্রতিটি জায়গা রান আটকানো, ক্যাচ নেওয়া এবং ব্যাটসম্যানের দুর্বলতা কাজে লাগানোর নির্দিষ্ট দায়িত্ব বহন করে। ক্রিকেট গাইড-এর এই ব্যাখ্যায় উইকেটকিপার,...

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ 5 min read
২০২৬ ক্রিকেট ফিল্ডিং: ১১টি গুরুত্বপূর্ণ নাম
❦

২০২৬ ক্রিকেট ফিল্ডিং: ১১টি গুরুত্বপূর্ণ নাম

ক্রিকেটে ফিল্ডিং পজিশনের নাম শুধু মুখস্থ করার বিষয় নয়; প্রতিটি জায়গা রান আটকানো, ক্যাচ নেওয়া এবং ব্যাটসম্যানের দুর্বলতা কাজে লাগানোর নির্দিষ্ট দায়িত্ব বহন করে। ক্রিকেট গাইড-এর এই ব্যাখ্যায় উইকেটকিপার, স্লিপ, গালি, পয়েন্ট, কভার, মিড-অফ, মিড-অন, স্কয়ার লেগ, ফাইন লেগ, থার্ডম্যান ও লং-অনসহ প্রচলিত অবস্থানগুলো বোঝানো হয়েছে। ক্রিকেট মাঠে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ১১ জন ফিল্ডার থাকে, তবে বোলার ও উইকেটকিপার বাদ দিলে অধিনায়কের হাতে সাধারণত ৯টি ফিল্ডিং পজিশন সাজানোর সুযোগ থাকে। ডানহাতি ও বাঁহাতি ব্যাটসম্যান বদলালে স্লিপ, লেগ সাইড এবং অফ সাইডের ভারসাম্যও বদলায়। তাই আজকের করণীয় হলো মাঠকে অফ সাইড, লেগ সাইড, ইনফিল্ড ও আউটফিল্ডে ভাগ করে প্রতিটি নামের কাজ বোঝা।

5 Lions · Free demo

A cricket captain arranging eleven fielders across a bright international stadium before play

প্রথমে মাঠের একটি সহজ মানচিত্র মনে রাখা সুবিধাজনক। ব্যাটসম্যানের ব্যাটের সামনের দিকের ডান পাশকে সাধারণত অফ সাইড এবং পেছনের দিককে লেগ সাইড বলা হয়; অবশ্য ডানহাতি ও বাঁহাতি ব্যাটসম্যান বদলালে বাস্তব দিকের ব্যাখ্যাও বদলে যায়। মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের ক্রিকেট আইন অনুযায়ী ফিল্ডিং সাজানোয় বোলারের প্রান্ত, ব্যাটসম্যানের অবস্থান এবং বলের সম্ভাব্য গতিপথ গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বা আইসিসির ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি নিয়মে পাওয়ারপ্লে চলাকালে ৩০-গজ বৃত্তের বাইরে ফিল্ডারের সংখ্যাও সীমিত থাকে। অর্থাৎ নাম জানা যথেষ্ট নয়; কোন পজিশন কখন ব্যবহারযোগ্য, সেটিই আসল। এই ভিত্তি পরিষ্কার থাকলে টেলিভিশনের কমেন্ট্রি, স্কোরকার্ড এবং ম্যাচ বিশ্লেষণ অনেক কম জটিল লাগে (সত্যি বলতে, এখানেই বেশিরভাগ নতুন দর্শক আটকে যান)।

আরও ব্যবহারিক ব্যাখ্যা পেতে এই সহায়ক বিষয়টি দেখে নিতে পারেন।

আরও জানুন

ক্রিকেটে ১১টি ফিল্ডিং পজিশন কি সত্যিই আলাদা?

হ্যাঁ, ক্রিকেটের ১১টি প্রচলিত ফিল্ডিং পজিশনের প্রতিটির অবস্থান ও দায়িত্ব আলাদা, যদিও অধিনায়ক পরিস্থিতি অনুযায়ী একই খেলোয়াড়কে কয়েক ধাপ সামনে বা পেছনে সরাতে পারেন। উইকেটকিপার স্টাম্পের পেছনে থাকেন, স্লিপ কর্ড উইকেটের পাশে, আর কভার-পয়েন্ট অঞ্চল অফ সাইডে। এই নামগুলো বলের সম্ভাব্য দিক এবং ক্যাচের উচ্চতার সঙ্গে যুক্ত।

১. উইকেটকিপার

উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানের ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে বল ধরেন, স্টাম্পিং করেন এবং এজ বা গ্লাভ ক্যাচের সুযোগ তৈরি হলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখান। স্পিনারের ক্ষেত্রে তিনি উইকেটের কাছাকাছি দাঁড়াতে পারেন, আবার দ্রুতগতির পেসারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার জন্য কিছুটা পেছনে যান। ভারতের মহেন্দ্র সিং ধোনি, শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারা এবং বাংলাদেশের মুশফিকুর রহিম এই পজিশনের পরিচিত আন্তর্জাতিক নাম। কিপারের অবস্থান কয়েক ইঞ্চি বদলালেও বল ধরার কোণ পাল্টে যায়; বিশেষ করে অফ স্পিনার, লেগ স্পিনার এবং রিভার্স সুইংয়ের সময় এই পার্থক্য চোখে পড়ে।

২. স্লিপ

স্লিপ ফিল্ডার উইকেটের পাশে, ব্যাটসম্যানের অফ সাইডে তির্যকভাবে দাঁড়ান। এজ হয়ে বল ব্যাটের কানায় লাগলে সেটি সাধারণত উইকেটকিপার বা স্লিপ কর্ডের দিকে যায়। একজন স্লিপ থাকলে তাকে প্রথম স্লিপ, এরপর দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ স্লিপ বলা হয়। ডানহাতি ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে স্লিপ সাধারণত অফ সাইডে থাকে; বাঁহাতি ব্যাটসম্যান এলে স্লিপের কোণ বদলাতে হয়। টেস্ট ক্রিকেটে জেমস অ্যান্ডারসন বা রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মতো বোলারের ক্ষেত্রে স্লিপ কর্ড বেশি ব্যবহৃত হয়, কারণ সুইং ও টার্ন ব্যাটের বাইরের কানায় বল লাগাতে পারে। সীমিত ওভারে অবশ্য পাওয়ারপ্লে, মাঠের আকার এবং ব্যাটসম্যানের আক্রমণাত্মক ধরন অনুযায়ী স্লিপ দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়।

৩. গালি

গালি স্লিপের আরও চওড়া এবং পেছনের দিকে থাকা অফ সাইডের পজিশন। ব্যাটসম্যান শরীর থেকে দূরে থাকা শর্ট-অফ-লেংথ বল কাট বা গ্লাইড করতে গেলে বল গালির দিকে যেতে পারে। এখানে প্রতিক্রিয়ার সময় কম, তাই সাধারণত দ্রুত হাত ও ভালো ক্যাচিং দক্ষতার ফিল্ডার রাখা হয়। স্লিপ ও গালির মধ্যে সূক্ষ্ম তফাত আছে: স্লিপ সরাসরি এজের জন্য বেশি কার্যকর, আর গালি ব্যাটের খোলা মুখে খেলা চওড়া শট আটকাতে বেশি উপযোগী। অস্ট্রেলিয়ার স্লিপ কর্ড, ইংল্যান্ডের ডিউক বল এবং নিউজিল্যান্ডের মেঘলা কন্ডিশনে এই অঞ্চলের গুরুত্ব আরও বাড়ে।

৪. পয়েন্ট

পয়েন্ট অফ সাইডে ব্যাটসম্যানের স্কোয়ার বা প্রায় ৯০ ডিগ্রি পাশে অবস্থান করেন। কাট শট, স্কোয়ার ড্রাইভ এবং ব্যাকফুট পাঞ্চ থেকে আসা বল থামানো তার প্রধান কাজ। পয়েন্ট ফিল্ডারকে কখনও ব্যাটসম্যানের কাছে রাখা হয়, কখনও বাউন্ডারি লাইনের দিকে পাঠানো হয়। এটি নির্ভর করে ব্যাটসম্যানের স্ট্রাইক রেট, বোলারের লাইন এবং ম্যাচের ওভার সংখ্যার ওপর। ওয়ানডেতে পয়েন্টে দ্রুত ফিল্ডার থাকলে এক রানকে ডট বলে বদলানো যায়; টি-টোয়েন্টিতে এই এক রানও বড় পার্থক্য তৈরি করে। ক্রিকেট গাইডের ম্যাচ বিশ্লেষণে পয়েন্ট অঞ্চলের ফিল্ডিং পরিবর্তন দেখলে অধিনায়কের পরিকল্পনা বোঝা সহজ হয়।

ক্রিকেটের ব্যাটিং শট ও বলের দিক বোঝার গাইড

এই চারটি অবস্থান নিয়ে পরিষ্কার ধারণা করতে একটি ছোট তালিকা কাজে দেবে।

  • স্লিপ: ব্যাটের বাইরের কানার ক্যাচ।
  • গালি: চওড়া এজ ও কাট শটের অঞ্চল।
  • পয়েন্ট: স্কোয়ার কাট ও ব্যাকফুট শট আটকানো।
  • উইকেটকিপার: বল ধরা, স্টাম্পিং ও কিপিং-সংক্রান্ত ক্যাচ।

নির্দিষ্ট শটের ক্ষেত্রে ফিল্ডিং পজিশন কীভাবে কাজ করে?

শটের দিক, ব্যাটসম্যানের শক্তি এবং বোলারের লাইন দেখে ফিল্ডিং পজিশন নির্ধারিত হয়। কভার ও মিড-অফ অফ সাইডের সামনের ড্রাইভ আটকায়, মিড-অন ও স্কয়ার লেগ লেগ সাইডের রান কমায়, আর থার্ডম্যান ও ফাইন লেগ বাউন্ডারি রক্ষা করে। একজন ফিল্ডার স্থির জায়গায় আটকে থাকেন না; বলের গতি, ওভার এবং রান-প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁর অবস্থান কয়েক মিটার বদলাতে পারে।

৫. কভার

কভার পজিশন অফ সাইডে, পয়েন্ট ও মিড-অফের মাঝামাঝি এলাকায় থাকে। কভার ড্রাইভ, এক্সট্রা-কভার ড্রাইভ এবং অফ সাইডের ফাঁকা জায়গা থেকে আসা রান থামানো তার কাজ। কভারে সাধারণত চটপটে এবং শক্তিশালী থ্রো করতে পারেন এমন ফিল্ডার রাখা হয়, কারণ এখানে বল থামানোর পর দ্রুত উইকেটের দিকে পাঠাতে হয়। এক্সট্রা কভার কভারের তুলনায় আরও সামনে বা বোলারের দিকে থাকে; ব্যাটসম্যান যদি সামনের পা বাড়িয়ে ড্রাইভ খেলেন, তখন এই জায়গায় ক্যাচ বা সেভের সুযোগ তৈরি হয়। ডানহাতি ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে কভার-ড্রাইভের ঝুঁকি বেশি থাকলে অধিনায়ক কভারকে কিছুটা গভীর করেন।

৬. মিড-অফ

মিড-অফ বোলারের প্রান্তের সামনে অফ সাইডে দাঁড়ান। সোজা ড্রাইভ, লফটেড ড্রাইভ এবং বোলারের মাথার ওপর দিয়ে যাওয়া শট থামানো তাঁর প্রধান দায়িত্ব। পেস বোলারের ক্ষেত্রে মিড-অফ সাধারণত কিছুটা পেছনে রাখা হয়, যাতে শক্তিশালী ড্রাইভে বাউন্ডারি না হয়। স্পিনারের সময় তিনি সামনে উঠে আসতে পারেন, কারণ ব্যাটসম্যানকে লফটেড শট খেলতে বাধ্য করা হয়। টেস্টে রক্ষণাত্মক মিড-অফ এক রান আটকে রাখেন, কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে একই জায়গার ফিল্ডার ক্যাচিং পজিশনে উঠে এসে ভুল শটের অপেক্ষা করেন।

৭. মিড-অন

মিড-অন লেগ সাইডে বোলারের প্রান্তের সামনে থাকা পজিশন। সোজা ব্যাটে খেলা অন-ড্রাইভ, ফ্লিক এবং লফটেড শট থেকে আসা বল আটকানো তার কাজ। মিড-অন ও মিড-অফকে অনেক সময় জোড়া পজিশন হিসেবে দেখা হয়, কারণ দুটিই বোলারের সামনে সোজা শটের সম্ভাব্য পথ বন্ধ করে। ডানহাতি ব্যাটসম্যানের কবজির কাজ বেশি হলে মিড-অন একটু গভীরে রাখা হতে পারে। আবার রান তাড়া করার শেষ ওভারে ক্যাচ আটকানোর চেয়ে বাউন্ডারি বাঁচানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই একই নাম থাকলেও ম্যাচের স্কোর, বলের অবস্থা এবং ব্যাটসম্যানের শট নির্বাচন অনুযায়ী জায়গাটি বদলে যায়।

৮. স্কয়ার লেগ

স্কয়ার লেগ লেগ সাইডে ব্যাটসম্যানের পাশে প্রায় সমকোণে অবস্থান করেন। পুল, হুক, ফ্লিক এবং প্যাডে লেগে যাওয়া বলের সম্ভাব্য পথ এই অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত। স্কয়ার লেগ সামনে থাকলে এক রান আটকানো যায়, আর গভীর স্কয়ার লেগ বাউন্ডারি রক্ষা করেন। লেগ স্পিনারের ক্ষেত্রে স্কয়ার লেগের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গুগলি বা লেগ-ব্রেকের বিরুদ্ধে ব্যাটসম্যান ভুল টাইমিংয়ে এই অঞ্চলে বল পাঠাতে পারেন। তবে স্কয়ার লেগ ও আম্পায়ারের অবস্থান এক নয়; আম্পায়ার নির্দিষ্ট দায়িত্বে থাকেন, ফিল্ডার বল থামানোর জন্য জায়গা নেন। এই পার্থক্য নতুন দর্শকদের বিশেষভাবে মনে রাখা উচিত।

ক্রিকেট মাঠের দিকগুলো ছবিতে কল্পনা করতে চাইলে এই সম্পর্কিত তথ্যটি সহায়ক হতে পারে।

আরও জানুন

ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে কোন ফিল্ডিং পজিশন বদলে যায়?

ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে ফিল্ডিং পজিশনের নাম একই থাকে, কিন্তু তার গভীরতা, কোণ এবং দায়িত্ব বদলে যায়। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, রিভার্স সুইং, লেগ স্পিন, শেষ ওভার এবং পাওয়ারপ্লে—প্রতিটি ক্ষেত্রে অধিনায়ক একই মানচিত্রকে নতুনভাবে ব্যবহার করেন। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা যায় স্লিপ কর্ড, থার্ডম্যান, ফাইন লেগ এবং ৩০-গজ বৃত্তের ভেতরের ফিল্ডারদের জায়গায়।

Left-handed batter facing a leg spinner while fielders shift around the thirty-yard circle under stadium lights

৯. থার্ডম্যান

থার্ডম্যান অফ সাইডের পেছনে, সাধারণত স্লিপের পেছনের বাউন্ডারি অঞ্চলে থাকেন। ব্যাটের কানায় লেগে বল পেছনে চলে গেলে, অথবা ব্যাটসম্যান গাইড শট খেললে থার্ডম্যান সেই বল আটকান। দ্রুতগতির পেসারের বিপক্ষে থার্ডম্যান প্রায়ই বাউন্ডারি লাইনে থাকেন, কারণ সূক্ষ্ম এজ চার হয়ে যেতে পারে। ধীর পিচে অবশ্য অধিনায়ক তাঁকে ৩০-গজ বৃত্তের কাছে এনে এক রান আটকানোর চেষ্টা করতে পারেন। এখানে একটি ব্যবহারিক বিষয় আছে: থার্ডম্যান খুব বেশি স্কোয়ারে থাকলে স্লিপের পেছনের ফাঁক তৈরি হয়, আবার খুব বেশি ফাইন হলে গাইড শটের রান বেড়ে যায়। তাই ব্যাটসম্যানের ব্যাটের মুখ দেখে কোণ বেছে নেওয়া হয়।

১০. ফাইন লেগ

ফাইন লেগ লেগ সাইডের পেছনে, স্কয়ার লেগের তুলনায় আরও ফাইন বা উইকেটের কাছাকাছি কোণে থাকে। ফ্লিক, লেগ গ্ল্যান্স, প্যাডে লেগে যাওয়া বল এবং ফাইন এজ থেকে আসা রান ঠেকানো তার দায়িত্ব। পেসারের বল যদি লেগ স্টাম্পের বাইরে যায়, ব্যাটসম্যান প্রায়ই বলটিকে ফাইন লেগের দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারেন। তখন ফাইন লেগ বাউন্ডারি সেভ করার জন্য গভীরে থাকে। স্পিনারের বিপক্ষে এই ফিল্ডারকে সামনে এনে সিঙ্গেল বন্ধ করা যায়, বিশেষ করে যখন ব্যাটসম্যান শুধু স্ট্রাইক বদলাতে চান। থার্ডম্যান ও ফাইন লেগ দুটিই পেছনের বাউন্ডারি অঞ্চলের পজিশন, কিন্তু একটির দিক অফ সাইড এবং অন্যটির দিক লেগ সাইড।

১১. লং-অন ও অতিরিক্ত গভীর ফিল্ডার

লং-অন মিড-অন থেকে আরও গভীরে, লেগ সাইডের বাউন্ডারির কাছে থাকে। সোজা লফটেড শট, স্লগ এবং স্পিনারের বিরুদ্ধে বড় হিট আটকানো তার প্রধান কাজ। একইভাবে লং-অফ অফ সাইডে মিড-অফের পেছনের গভীর অঞ্চলে থাকে, যদিও এটি ১১টি মৌলিক নামের তালিকায় অনেক সময় আলাদা করে যোগ করা হয়। লং-অন ও লং-অফ সাধারণত শেষ ওভার, আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এবং স্পিন বোলিংয়ের সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্লেষণেও দেখা যায়, বাউন্ডারি লাইনে ফিল্ডার থাকলেও দুই ব্যাটারের দ্রুত দৌড় থামাতে অভ্যন্তরীণ ফিল্ডার প্রয়োজন। তাই শুধু ক্যাচের জন্য নয়, দ্বিতীয় রান আটকানোর জন্যও গভীর ফিল্ডার নির্বাচন করা হয়।

ডানহাতি ও বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের প্রভাব

ব্যাটসম্যানের হাত বদলালে মাঠের নাম বদলায় না, কিন্তু ব্যাটের সম্ভাব্য শটের কোণ বদলে যায়। ডানহাতি ব্যাটসম্যানের জন্য অফ সাইডের স্লিপ, গালি, পয়েন্ট ও কভার যেভাবে সাজানো হয়, বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে সেটি আয়নার মতো উল্টো ভাবতে হয়। এই পরিবর্তনটি কেবল দিক বদল নয়; বোলারের অ্যাঙ্গেল, বলের সুইং এবং ব্যাটসম্যানের ক্রিজে দাঁড়ানোর জায়গাও বিবেচনায় আসে।

  • ডানহাতি ব্যাটসম্যানের বাইরের এজ সাধারণত প্রথম স্লিপ ও গালির দিকে যায়।
  • বাঁহাতি ব্যাটসম্যান এলে স্লিপ কর্ডের কোণ এবং কভারের দূরত্ব পাল্টাতে হয়।
  • ফাইন লেগ ও থার্ডম্যানের অবস্থান বোলারের লাইন অনুযায়ী কয়েক ধাপ সরতে পারে।
  • অফ স্পিনার ও লেগ স্পিনারের বিপক্ষে একই ফিল্ডিং ছক কার্যকর নাও হতে পারে।

বাঁহাতি ও ডানহাতি ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে বোলিং কৌশল

ক্রিকেটে ফিল্ডিং পজিশনের পরিকল্পনা কোথায় ব্যর্থ হয়?

ফিল্ডিং পরিকল্পনা সাধারণত ব্যর্থ হয় যখন অধিনায়ক শুধু পজিশনের নাম দেখেন, কিন্তু বোলারের লাইন, ব্যাটসম্যানের শক্তির জায়গা এবং ম্যাচের স্কোর বিবেচনা করেন না। থার্ডম্যান গভীরে রেখে পয়েন্টে জায়গা খালি করলে এক রান কমলেও চার বাড়তে পারে; আবার সব ফিল্ডার বাউন্ডারিতে পাঠালে সিঙ্গেল-ডাবলে চাপ কমে যায়। তাই ফিল্ডিংয়ের সাফল্য নামের চেয়ে অবস্থানের যুক্তির ওপর বেশি নির্ভর করে।

সবচেয়ে সাধারণ ভুলগুলোর মধ্যে রয়েছে ভুল ব্যাটসম্যানের জন্য একই ছক ধরে রাখা, ক্যাচিং পজিশনে অনভিজ্ঞ ফিল্ডার বসানো এবং বোলারের পরিকল্পনার সঙ্গে ফিল্ডিং না মেলানো। যেমন, অফ স্টাম্পের বাইরে বারবার বল করা হলে স্লিপ, গালি ও থার্ডম্যানের সম্পর্ক ঠিক রাখতে হবে; কিন্তু লেগ স্টাম্পে বল করলে ফাইন লেগ ও স্কয়ার লেগের দূরত্ব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আইসিসির ম্যাচ-নিয়মে পাওয়ারপ্লে চলাকালে ৩০-গজ বৃত্তের বাইরে নির্দিষ্ট সংখ্যক ফিল্ডার রাখার সীমা থাকে—সীমিত ওভারে এটি ভাঙলে নো-বল বা নিয়মভিত্তিক শাস্তি হতে পারে। মাঠের আকারও বড় বিষয়: লর্ডস, মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের বাউন্ডারি এক নয়। ফলে একই লং-অন পজিশনে বাস্তব দূরত্ব এক মাঠে অন্য মাঠের তুলনায় অনেকটা আলাদা হতে পারে।

Cricket coach reviewing a tactical fielding diagram beside a scoreboard showing overs and required runs

ফিল্ডিং বুঝতে নিচের ভুল-সংশোধন তালিকাটি বেশ কার্যকর।

  1. ভুল: স্লিপকে সবসময় একই দূরত্বে রাখা। সংশোধন: বলের গতি, সুইং ও ব্যাটসম্যানের ক্রিজে অবস্থান দেখে দূরত্ব বদলান।
  2. ভুল: পয়েন্টে ফিল্ডার রেখেই কভার ফাঁকা রাখা। সংশোধন: ব্যাটসম্যানের কাট ও ড্রাইভ—দুই শটের ঝুঁকি তুলনা করুন।
  3. ভুল: শেষ ওভারে শুধু বাউন্ডারি রক্ষা করা। সংশোধন: ডাবল রান এবং দ্রুত থ্রো আটকানোর জন্য ইনফিল্ডও রাখুন।
  4. ভুল: কিপারকে স্পিনার ও পেসারের সময় একই জায়গায় রাখা। সংশোধন: বলের টার্ন, বাউন্স এবং কিপারের ক্যাচিং দূরত্ব অনুযায়ী অবস্থান বদলান।

মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইন ক্রিকেটে ফিল্ডারের বৈধ অবস্থান, ক্যাচ এবং বল থামানোর মৌলিক কাঠামো নির্ধারণ করে। সংস্থাটির আইনভিত্তিক ব্যাখ্যার সারকথা হলো, ফিল্ডারকে বল ডেলিভারির আগে অযথা বিভ্রান্তিকরভাবে নড়াচড়া করা চলবে না। এই নিয়মটি ছোট মনে হলেও শেষ মুহূর্তে ফিল্ডার সরিয়ে ব্যাটসম্যানকে ভুল করানোর চেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে আইসিসির অফিসিয়াল খেলার শর্তাবলি প্রতিযোগিতাভেদে পাওয়ারপ্লে, ফিল্ডিং সীমা ও ম্যাচ-নির্দিষ্ট বিধান ব্যাখ্যা করে। একটি মনে রাখার মতো তথ্য হলো, ফিল্ডিং পজিশনের নাম আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত হলেও স্থানীয় মাঠে অধিনায়করা “শর্ট কভার”, “ডিপ পয়েন্ট” বা “ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার” বলে আরও সূক্ষ্ম নির্দেশ দিতে পারেন।

বিস্তারিত নিয়ম ও মাঠের প্রয়োগ একসঙ্গে দেখতে চাইলে এই পরবর্তী পাঠটি উপকারী হবে।

আরও জানুন

আজই কি ক্রিকেটের ফিল্ডিং পজিশন শেখা উচিত?

হ্যাঁ, আজই শেখা উচিত, কারণ ১১টি মূল ফিল্ডিং পজিশন বুঝলে ম্যাচের কৌশল, অধিনায়কের সিদ্ধান্ত এবং ব্যাটসম্যানের ঝুঁকি দ্রুত পড়া যায়। শুরুতে উইকেটকিপার, স্লিপ, পয়েন্ট, কভার, মিড-অফ, মিড-অন, স্কয়ার লেগ, ফাইন লেগ, থার্ডম্যান ও লং-অন—এই নামগুলো মাঠের একটি বৃত্তাকার মানচিত্রে বসান। তারপর ডানহাতি ও বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের জন্য অবস্থান তুলনা করুন।

শেখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সরাসরি টেলিভিশন বা অনলাইন স্কোরবোর্ডে অধিনায়কের ফিল্ডিং পরিবর্তন লক্ষ্য করা। প্রথমে দেখুন কোন ফিল্ডার বাউন্ডারিতে আছে, তারপর বোলারের বলের লাইন এবং ব্যাটসম্যানের আগের শট মিলিয়ে নিন। ৩০-গজ বৃত্ত, বাউন্ডারি, পিচ, স্টাম্প এবং ব্যাটসম্যানের অবস্থান—এই পাঁচটি চিহ্ন আঁকলেই মাঠের জটিলতা অনেক কমে যায়। ক্রিকেট গাইড-এর ম্যাচ পর্যালোচনা, খেলোয়াড় পরিসংখ্যান এবং বিপিএল কভারেজ পড়ার সময় এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে ফিল্ডিং পরিবর্তনের কারণও ধরা পড়বে। শুরুতে সব নাম একসঙ্গে মনে না থাকলেও সমস্যা নেই; প্রতিদিন তিনটি পজিশন করে শেখা এবং একটি নির্দিষ্ট শটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পদ্ধতি। অবশ্যই দায়িত্বশীলভাবে ক্রিকেট বিশ্লেষণ করুন এবং অনুমানের বদলে অফিসিয়াল স্কোর ও নিয়মকে অগ্রাধিকার দিন।

বিপিএল ম্যাচ বিশ্লেষণ ও খেলোয়াড় পরিসংখ্যান

সংক্ষেপে মনে রাখার জন্য মাঠভিত্তিক তালিকাটি নিচে দেওয়া হলো।

  • উইকেটের পেছনে: উইকেটকিপার।
  • অফ সাইডের কাছে: স্লিপ, গালি, পয়েন্ট, কভার, মিড-অফ।
  • লেগ সাইডের কাছে: স্কয়ার লেগ, মিড-অন।
  • দুই বাউন্ডারি অঞ্চলে: থার্ডম্যান, ফাইন লেগ, লং-অন এবং লং-অফ।
  • পরিস্থিতিভেদে: শর্ট কভার, ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট, ডিপ স্কয়ার লেগ ও শর্ট ফাইন লেগ।

এই নামগুলো জানার পর ম্যাচ দেখার সময় কেবল বল কোথায় গেল তা নয়, কেন সেই ফিল্ডার সেখানে ছিল সেটিও বোঝার চেষ্টা করুন। ভালো ফিল্ডিং পরিকল্পনা এক রান বাঁচাতে পারে, ক্যাচের সুযোগ তৈরি করতে পারে এবং বোলারের দুর্বল বলকেও কম ক্ষতিকর করে তুলতে পারে। তাই ক্রিকেটে ফিল্ডিং পজিশনের নাম শেখা আসলে পুরো ম্যাচের কৌশল পড়ার প্রথম ধাপ।

আরও ক্রিকেটভিত্তিক ব্যাখ্যা ও নিয়মিত ম্যাচ তথ্য পেতে পাঠটি সংরক্ষণ করতে পারেন।

আরও জানুন

ক্রিকেটের বোলিং কৌশল ও ফিল্ড সেটিং

সাধারণ জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন: ক্রিকেটে ফিল্ডিং পজিশন কী?

উত্তর: ক্রিকেটে ফিল্ডিং পজিশন হলো মাঠের নির্দিষ্ট জায়গা, যেখানে ফিল্ডার ব্যাটসম্যানের শট আটকানো বা ক্যাচ নেওয়ার জন্য দাঁড়ান। উইকেটকিপার, স্লিপ, পয়েন্ট, কভার, মিড-অন, স্কয়ার লেগ ও থার্ডম্যান এর পরিচিত উদাহরণ। প্রতিটি অবস্থানের নাম বলের সম্ভাব্য দিকের সঙ্গে সম্পর্কিত। ডানহাতি বা বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, বোলারের ধরন এবং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী ফিল্ডারের সঠিক দূরত্ব বদলাতে পারে।

প্রশ্ন: ক্রিকেটের ফিল্ডিং পজিশন কীভাবে সহজে শেখা যায়?

উত্তর: প্রথমে মাঠকে অফ সাইড, লেগ সাইড, ইনফিল্ড ও আউটফিল্ড—এই চার ভাগে ভাগ করে শেখা সবচেয়ে সহজ। এরপর প্রতিদিন স্লিপ, পয়েন্ট, কভার, মিড-অন ও স্কয়ার লেগের মতো পাঁচটি নাম একটি ম্যাচে খুঁজে দেখুন। টেলিভিশন রিপ্লে বা স্কোরবোর্ডে অধিনায়কের পরিবর্তন লক্ষ্য করলে নামের সঙ্গে কাজও মনে থাকে। শেষে ডানহাতি ও বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের জন্য একই পজিশনের পার্থক্য মিলিয়ে নিন।

প্রশ্ন: স্লিপ ও গালির মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: স্লিপ উইকেটের বেশি কাছে থাকে এবং বাইরের এজের ক্যাচ নেয়, আর গালি তুলনামূলক চওড়া ও পেছনের দিকে থাকে। স্লিপ সাধারণত সোজা এজ বা হালকা ডিফ্লেকশনের জন্য ব্যবহৃত হয়। গালি ব্যাটসম্যানের শরীর থেকে দূরে থাকা শর্ট বল, কাট বা চওড়া এজের সম্ভাব্য পথ ঢাকে। পেস বোলিং, সুইং এবং ব্যাটসম্যানের শটের ধরন অনুযায়ী দুই পজিশনের দূরত্ব বদলায়।

প্রশ্ন: ফিল্ডিং পজিশন কেন কাজ করে না?

উত্তর: ফিল্ডিং পজিশন কাজ নাও করতে পারে যদি তা বোলারের লাইন বা ব্যাটসম্যানের শক্তির সঙ্গে না মেলে। পয়েন্টে ভালো ফিল্ডার থাকলেও কভার ফাঁকা থাকলে ব্যাটসম্যান সহজে ড্রাইভ করে রান নিতে পারেন। আবার থার্ডম্যান গভীরে থাকলে সিঙ্গেল বন্ধ নাও হতে পারে। তাই প্রতি ওভার শেষে বোলারের পরিকল্পনা, আগের শট এবং ম্যাচের প্রয়োজন দেখে ফিল্ডিং পুনর্বিন্যাস করা উচিত।

প্রশ্ন: ফিল্ডিং পজিশন শেখার জন্য কি কোনো খরচ লাগে?

উত্তর: ক্রিকেটের মৌলিক ফিল্ডিং পজিশন শেখার জন্য কোনো খরচ লাগে না। টেলিভিশন ম্যাচ, আইসিসির অফিসিয়াল নিয়ম, মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইন এবং নির্ভরযোগ্য ক্রিকেট সাইট ব্যবহার করেই শেখা সম্ভব। অনুশীলনের জন্য কাগজে পিচ, স্টাম্প, ৩০-গজ বৃত্ত ও বাউন্ডারি এঁকে ফিল্ডার বসিয়ে দেখুন। কোচিং নিতে চাইলে স্থানীয় ক্রিকেট একাডেমির মাসিক ফি আলাদা হতে পারে, কিন্তু নাম ও দায়িত্ব বোঝার জন্য বিনামূল্যের উপকরণ যথেষ্ট।

প্রশ্ন: পাওয়ারপ্লেতে ফিল্ডিং পজিশন কীভাবে বদলায়?

উত্তর: পাওয়ারপ্লেতে ৩০-গজ বৃত্তের বাইরে সীমিত সংখ্যক ফিল্ডার রাখা যায়, তাই অধিনায়ককে আক্রমণ ও রান আটকানোর মধ্যে ভারসাম্য করতে হয়। প্রথম ওভারে স্লিপ বা গালি রাখা হতে পারে, কিন্তু কয়েক ওভার পর থার্ডম্যান বা পয়েন্টে পরিবর্তন আসতে পারে। নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রতিযোগিতার খেলার শর্ত অনুযায়ী বদলাতে পারে, তাই আইসিসির সংশ্লিষ্ট নিয়ম দেখা উচিত। টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে ও টেস্টে এই পরিকল্পনা এক নয়।

প্রশ্ন: লং-অন ও মিড-অন কি একই পজিশন?

উত্তর: লং-অন ও মিড-অন একই লেগ সাইডের লাইনে থাকলেও তাদের গভীরতা আলাদা। মিড-অন বোলারের প্রান্তের সামনে ইনফিল্ডে থাকে, আর লং-অন সাধারণত বাউন্ডারি লাইনের কাছে থাকে। মিড-অন সিঙ্গেল ও সোজা ড্রাইভ আটকাতে বেশি কার্যকর। লং-অন লফটেড শট, স্লগ এবং শেষ ওভারের বড় হিট ঠেকানোর জন্য ব্যবহার করা হয়।

§

এই ঘটনাবলী অন্বেষণ করার জন্য ধন্যবাদ।

❦

ক্রিকেট গাইড · The Archive

সম্পর্কিত নিবন্ধ